Skip to content
Tame Academy
গল্পে গল্পে কর্পোরেট গভর্নেন্স কোড-২০১৮ — প্রচ্ছদ
আইন বই

গল্পে গল্পে কর্পোরেট গভর্নেন্স কোড-২০১৮

By মো: মেহেদী হাসান, এলএল.বি, এসিএস · টেইম অ্যাকাডেমি

তালিকাভুক্ত কোম্পানির প্রতিটি সিদ্ধান্তেই এখন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (BSEC) কর্পোরেট গভর্নেন্স কোড-২০১৮ মেনে চলা বাধ্...

Ebook
৳100

About this book

তালিকাভুক্ত কোম্পানির প্রতিটি সিদ্ধান্তেই এখন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (BSEC) কর্পোরেট গভর্নেন্স কোড-২০১৮ মেনে চলা বাধ্যতামূলক। কিন্তু মূল ইংরেজি গেজেটের জটিল আইনি ভাষা আর প্যাঁচালো শব্দচয়ন অধিকাংশ পাঠকের কাছেই এক দুর্বোধ্য অধ্যায় হয়ে দাঁড়ায়। এই বইয়ে সাত বন্ধুর একটি ব্যবসায়িক উদ্যোগ ও তাদের আড্ডার গল্পের মধ্য দিয়ে কোডের ৯টি শর্তকে স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ করে তুলে ধরা হয়েছে — যাতে আইন পড়ছেন মনেই না হয়, অথচ পুরো শিখনটা এক বৈঠকেই মনের মণিকোঠায় গেঁথে যায়।

এই বইয়ে যা যা পাবেন —

  • BSEC গেজেটের মূল ইংরেজি টেক্সট, পাশাপাশি পরিশীলিত প্রমিত বাংলা অনুবাদ
  • সাত বন্ধুর বাস্তবঘনিষ্ঠ গল্পের ছলে Condition ১ থেকে ৯ পর্যন্ত প্রতিটি শর্তের সহজ ব্যাখ্যা
  • জটিল আইনি পরিভাষা ও শব্দের প্রাঞ্জল বাংলা বিশ্লেষণ
  • প্রতিটি অধ্যায়ের শেষে Tips to Remember, Quiz ও MCQ অনুশীলনী — নিজের বোঝার গভীরতা যাচাইয়ের জন্য
  • জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সহজে মনে রাখার জন্য গোছানো তুলনামূলক তালিকা ও ছক

বইটি কাদের জন্য —

  • তালিকাভুক্ত কোম্পানির কোম্পানি সচিবালয়, বোর্ড, হিসাব ও অর্থ, লিগ্যাল এবং মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা
  • চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (CA), কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট (CMA), চার্টার্ড সেক্রেটারি (CS) ও BBA/MBA-এর শিক্ষার্থী
  • নতুন উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপ ফাউন্ডার, যাঁরা কোম্পানিকে আন্তর্জাতিক মানের সুশাসিত কাঠামোয় গড়ে তুলতে চান
  • গবেষক ও চাকরিপ্রার্থী, যাঁরা কর্পোরেট কমপ্লায়েন্স ও সুশাসনের নিয়মনীতি গভীরভাবে জানতে চান

লেখক মো: মেহেদী হাসান, এলএল.বি, এসিএস নিজে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারিজ অব বাংলাদেশ (আইসিএসবি)-এর একজন সনদপ্রাপ্ত চার্টার্ড সেক্রেটারি, এবং বইটি উৎসর্গ করা হয়েছে সেই প্রতিষ্ঠানকেই। বইঘরের রিডারে সরাসরি অনলাইনে পড়া যাবে — কোনো আলাদা অ্যাপ বা ডাউনলোডের প্রয়োজন নেই।

Details

Published
24 Sep 2026
Language
বাংলা
Chapters
17
Words
36,726
Format
Ebook
Publisher
টেইম অ্যাকাডেমি

Contents

  1. উৎসর্গ Read
  2. আমার গল্প: কেন এই বই? Read
  3. কাদের জন্য এই বই? Read
  4. বইটি কেন আপনার পড়া উচিত? Read
  5. ভূমিকা Read
  6. একটি কোম্পানির জন্ম 🔒
  7. প্রাইভেট থেকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি 🔒
  8. সহজ ভাষায় বিশ্লেষণ 🔒
  9. শর্ত 1 (Condition 1) 🔒
  10. শর্ত 2 (Condition 2) Read
  11. শর্ত 3 (Condition 3) 🔒
  12. শর্ত 4 (Condition 4) Read
  13. শর্ত 5 (Condition 5) 🔒
  14. শর্ত 6 (Condition 6) 🔒
  15. শর্ত 7 (Condition 7) 🔒
  16. শর্ত 8 (Condition 8) 🔒
  17. শর্ত 9 (Condition 9) Read

Book at a Glance

1/20 “

শুধু আইন নয়, একটি গল্প

একটি কোম্পানি। সাত বন্ধু। সবার স্বপ্ন একটাই, একটি সফল কোম্পানি গড়ে তোলা।

কিন্তু কোম্পানি বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সামনে আসে Board, Director, Audit, Compliance আর Governance-এর অসংখ্য প্রশ্ন।

👉 সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানতে গল্পের সঙ্গে হাঁটুন।

2/20 “

ব্যবসা করলেই কি কোম্পানি ভালোভাবে চলে?

একটি কোম্পানির সফলতার জন্য শুধু লাভ করাই যথেষ্ট নয়।

কে সিদ্ধান্ত নেবে? কে জবাবদিহি করবে? কীভাবে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে? কীভাবে Shareholder-এর স্বার্থ রক্ষা হবে?

👉 Corporate Governance-এর এই অদৃশ্য কাঠামোটি বুঝতে বইটি পড়ুন।

3/20 “

Corporate Governance আসলে কী?

Corporate Governance শুনতে যতটা কঠিন, বিষয়টি ততটা দূরের নয়।

স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, দায়িত্বশীলতা, সঠিক সিদ্ধান্ত এবং Stakeholder-এর স্বার্থ রক্ষা, সবকিছুর সঙ্গে এর সম্পর্ক।

কিন্তু বাস্তবে এগুলো কীভাবে কাজ করে?

👉 Code-এর ভাষা নয়, গল্পের ভাষায় বুঝুন।

4/20 “

Corporate Governance Code কেন এত কঠিন মনে হয়?

ইংরেজি ভাষা। Technical terminology। Condition, Sub-condition আর Disclosure requirement।

ফলে Code পড়তে গিয়ে অনেকেরই মনে হয়, এত কিছু কীভাবে মনে রাখব?

👉 কঠিন Code-কে সহজ গল্প, উদাহরণ ও ব্যাখ্যার মাধ্যমে বুঝে নিন।

5/20 “

গল্পের সাত বন্ধু

সাত বন্ধু মিলে শুরু করেছিল একটি কোম্পানি।

কোম্পানি যত বড় হতে থাকে, ততই তারা বুঝতে পারে, শুধু ব্যবসার ধারণা থাকলেই হবে না।

তাদের জানতে হবে Board কীভাবে কাজ করে, Director-এর দায়িত্ব কী, Audit Committee কী করে এবং Compliance কেন গুরুত্বপূর্ণ।

👉 সাত বন্ধুর সঙ্গে আপনিও শুরু করুন Corporate Governance-এর যাত্রা।

6/20 “

Board-এ কারা থাকবেন?

একটি কোম্পানির Board-এ সবাই কি একই ধরনের Director?

Executive Director এবং Independent Director-এর মধ্যে পার্থক্য কী?

Independent Director-এর ভূমিকা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

👉 Board-এর কাঠামো ও Director-এর ভূমিকা বুঝতে পরের পাতায় যান।

7/20 “

Independent Director কি শুধু একটি পদ?

Independent Director-এর নামের মধ্যেই আছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা, Independence।

কিন্তু কে Independent Director হতে পারবেন? কী কী যোগ্যতা প্রয়োজন? কোন বিষয়গুলো তাকে Independent থাকতে সাহায্য করে?

👉 Independent Director-এর যোগ্যতা ও ভূমিকা গল্পে গল্পে বুঝুন।

8/20 “

কোম্পানির চার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি

MD/CEO। Company Secretary। CFO। HIAC।

কোম্পানির Governance কাঠামোতে প্রত্যেকের রয়েছে আলাদা দায়িত্ব ও ভূমিকা।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, একজন ব্যক্তি কি একই সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকতে পারবেন?

👉 উত্তরটি জানতে Corporate Governance Code-এর গল্পে ঢুকে পড়ুন।

9/20 “

একজন ব্যক্তি কি দুই পদ সামলাতে পারবেন?

ধরুন, একজন ব্যক্তি একই সঙ্গে CFO এবং Company Secretary।

দক্ষতার দিক থেকে হয়তো সম্ভব মনে হতে পারে। কিন্তু Corporate Governance-এর দৃষ্টিতে বিষয়টি কি এত সহজ?

Code এখানে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সীমারেখা তৈরি করেছে।

👉 কোন পদ কার সঙ্গে একত্র করা যায় না, তা জেনে নিন।

10/20 “

Audit Committee কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন, Internal Control এবং গুরুত্বপূর্ণ Audit বিষয়গুলোতে Audit Committee-এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু এর সদস্য কতজন? কারা সদস্য হতে পারবেন? Chairman কে হবেন? Quorum কীভাবে হবে?

👉 Audit Committee-এর পুরো কাঠামো সহজভাবে বুঝুন।

11/20 “

অনিয়ম দেখলে Audit Committee কী করবে?

ধরুন, কোম্পানির কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অনিয়মের আশঙ্কা দেখা দিল।

তখন Audit Committee-এর ভূমিকা কী?

তারা কি শুধু বিষয়টি Board-কে জানাবে? নাকি প্রয়োজন হলে আরও পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ আছে?

👉 Audit Committee-এর দায়িত্ব ও ক্ষমতার সীমা জানতে বইটি পড়ুন।

12/20 “

Directors-এর পারিশ্রমিক কে ঠিক করবে?

Director এবং Top Management-এর remuneration একটি গুরুত্বপূর্ণ Governance বিষয়।

কেউ কি নিজের পারিশ্রমিক নিজেই নির্ধারণ করতে পারেন?

নাকি Nomination and Remuneration Committee-এর মতো কাঠামোর মাধ্যমে বিষয়টি পরিচালিত হয়?

👉 Remuneration-এর Governance framework গল্পে গল্পে বুঝুন।

13/20 “

Auditor-এরও কিন্তু সীমা আছে

অনেকে ভাবেন, Auditor মানেই কোম্পানির সব ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন।

কিন্তু Corporate Governance Code Auditor-এর স্বাধীনতা রক্ষায় কিছু নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা দিয়েছে।

কোন কাজগুলো Auditor-এর জন্য নিষিদ্ধ?

👉 Auditor-এর নিষিদ্ধ কাজগুলো একসঙ্গে জানতে বইটি খুলুন।

14/20 “

Company Website-ও কি Governance-এর অংশ?

হ্যাঁ, Corporate Governance শুধু Board Room-এর ভেতরের বিষয় নয়।

কোম্পানির Website-এর মাধ্যমেও নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশের প্রয়োজন হতে পারে।

কোন তথ্য? কেন প্রকাশ করতে হয়? কীভাবে Disclosure করা হয়?

👉 Website Disclosure-এর নিয়মগুলো সহজভাবে জেনে নিন।

15/20 “

Compliance Certificate কেন প্রয়োজন?

একটি কোম্পানি যদি বলে, আমরা Corporate Governance Code মেনে চলছি, তাহলে তার প্রমাণ কী?

প্রতি বছর Compliance Certificate একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

কিন্তু এই Certificate কে দিতে পারবেন?

👉 Compliance Certificate-এর পুরো বিষয়টি বুঝতে বইয়ের এই অধ্যায়টি পড়ুন।

16/20 “

আপনার Statutory Auditor-ই কি Certificate দিতে পারবেন?

এখানেই আসে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

যিনি কোম্পানির Statutory Auditor, তিনিই কি Corporate Governance Compliance Certificate দিতে পারবেন?

Code এখানে Auditor-এর Independence-এর বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছে।

👉 উত্তরটি জানার আগে আপনার ধারণাটি একবার যাচাই করে নিন।

17/20 “

Corporate Governance Code-এ আছে ৯টি প্রধান Condition

একটি Condition নয়। দুটি Condition নয়।

Corporate Governance Code 2018-এর রয়েছে ৯টি প্রধান Condition, যার প্রতিটির মধ্যে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ Governance requirements।

👉 ৯টি Condition একসঙ্গে বুঝতে বইটি হাতে নিন।

18/20 “

মুখস্থ নয়, বুঝে শিখুন

Corporate Governance Code মুখস্থ করার বই এটি নয়।

এখানে আছে:

Original Code সহজ বাংলা ব্যাখ্যা গল্প ও বাস্তব পরিস্থিতি প্রশ্ন ও উত্তর Quiz ও MCQ

👉 শুধু পড়বেন না, বুঝে শিখবেন।

19/20 “

এই বইটি কার জন্য?

আপনি কি Company Secretary?

Board বা Corporate Affairs-এর সঙ্গে কাজ করেন?

CA, CMA বা CS পড়ছেন?

Finance, Legal বা HR Professional?

Corporate Governance নিয়ে জানতে চান?

👉 তাহলে বইটি আপনার Professional Learning-এর অংশ হতে পারে।

20/20 “

এবার Corporate Governance-কে গল্পে পড়ুন

Corporate Governance Code 2018 আর শুধু কঠিন ইংরেজি Code নয়।

এবার Board, Director, Audit Committee, Compliance, Disclosure এবং Governance-এর বিষয়গুলোকে দেখুন একটি গল্পের ভেতর দিয়ে।

গল্প পড়ুন। Code বুঝুন। Governance শিখুন।

👉 আজই সংগ্রহ করুন গল্পে গল্পে Corporate Governance Code 2018

বইয়ের পাতায় গল্প শুরু হোক।

আমার গল্প: কেন এই বই?

গল্পে গল্পে কর্পোরেট গভর্নেন্স কোড-২০১৮ — প্রচ্ছদ

তখন আমি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারিজ অব বাংলাদেশ (আইসিএসবি)-এর আঙিনায় এক নিষ্ঠাবান শিক্ষার্থী। চার্টার্ড সেক্রেটারি (সিএস) ডিগ্রির মূল লক্ষ্যই হলো এমন এক ঝাঁক দক্ষ কোম্পানি সেক্রেটারি গড়ে তোলা, যাঁরা কোম্পানি আইন, সিকিউরিটিজ আইন এবং দেশের প্রচলিত সব নিয়মনীতির সুচারু প্রয়োগে প্রতিষ্ঠানের সুশাসন বা 'গুড গভর্নেন্স' নিশ্চিত করবেন। এই লক্ষ্য অর্জনে সিএস-এর পাঁচটি স্তর পার হতে গিয়ে বিপুল আইনের বই আর সরকারি গেজেটের গোলকধাঁধায় ডুব দিতে হয়।

ঠিক তখনই মনের ভেতর এক অদ্ভুত জেদ চেপে বসল। বুকের গভীরে এক দৃঢ় সংকল্পের বীজ বুনেছিলাম — একদিন আমি এমন একটি বই লিখব, যা কর্পোরেট গভর্নেন্স কোড-কে কোনো শুষ্ক নিয়মের ফ্রেমে নয়, বরং গল্পের সুতোয় সুতোয় বুনে ব্যাখ্যা করবে। প্রতিটি শর্ত (Condition) যেন মানুষের আটপৌরে জীবনের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়; প্রতিটি নিয়ম যেন হয়ে ওঠে চেনা কোনো গল্পের চেনা চরিত্র।

বইটিতে একটি ধারাবাহিক ও নিপুণ গল্পের আধারে কর্পোরেট গভর্নেন্স কোড-এর ৯টি শর্তকে অত্যন্ত প্রাঞ্জলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সাত বন্ধুর একটি ব্যবসায়িক উদ্যোগ এবং তাদের পারস্পরিক কথোপকথনের মধ্য দিয়ে কর্পোরেট গভর্নেন্স কোড-কে স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ করে উপস্থাপন করা হয়েছে এখানে। বইটি পড়ার সময় আপনার মনেই হবে না আপনি আইন পড়ছেন; বরং গল্পের ছলে, আনন্দের আবহে এক বৈঠকেই পুরো শিখনটা মনের মণিকোঠায় গেঁথে যাবে।

কেন এই বইটি আলাদা?

শুষ্ক ও কাঠখোট্টা আইনি ধারাগুলোকে 'ই-বই ডট কম'-এর সাত বন্ধুর আড্ডা, নিখুঁত রসায়ন, তর্ক-বিতর্ক আর প্রাতিষ্ঠানিক লড়াইয়ের জ্যান্ত গল্পে রূপান্তর করা হয়েছে, যা পড়া শুরু করলে আইনি বইয়ের ক্লান্তি উধাও হয়ে যাবে।

নিছক তাত্ত্বিক আলোচনার জালে না জড়িয়ে 'কোন পরিস্থিতিতে কোন নিয়মটি বাস্তবে ঠিক কীভাবে খাটবে এবং তার আইনি ব্যাখ্যা কী হবে' তা খুব সহজ ও সাবলীলভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

আইনি শুদ্ধতা, নির্ভরযোগ্যতা ও পেশাদারিত্বের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বজায় রাখার জন্য বিএসইসি (BSEC)-র মূল ইংরেজি গেজেটের টেক্সট হুবহু তুলে ধরা হয়েছে।

ইংরেজি টেক্সটের ঠিক পর পরই দেওয়া হয়েছে সহজ-সরল প্রমিত বাংলা অনুবাদ, যা আইনি ভাষার কঠিন জড়তা ও জটিলতাকে নিমেষেই দূর করে দেয়।

জটিল আইনি ধারা ও উপধারাগুলোকে ঢালাও প্যারাগ্রাফে না রেখে বুলেটেড পয়েন্ট আকারে ভেঙে ভেঙে অত্যন্ত সহজবোধ্য ও স্ক্যানযোগ্য করা হয়েছে।

ধারার ভেতরে লুকিয়ে থাকা কঠিন, টেকনিক্যাল ও জটিল কর্পোরেট শব্দের সহজ ও প্রাতিষ্ঠানিক অর্থ আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

প্রতিটি অধ্যায় বা ধারার শেষে রয়েছে চমৎকার একটি Quiz সেকশন (সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ও MCQ), যা পাঠ শেষে নিজের মেধা ও বোঝার গভীরতা চট করে যাচাই করে নিতে সাহায্য করবে।

বইটি কেন আপনার পড়া উচিত?

একটি স্টার্টআপ বা বিদ্যমান ব্যবসায়ে কর্পোরেট গভর্নেন্স কোড অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক মানের সুশাসিত কোম্পানিতে রূপান্তর করতে কোটি টাকার আইনি পরামর্শকের দরকার হয় না। দরকার আইনের ধারাগুলিকে বুঝে বাস্তবে প্রয়োগ করা। এই বইটি পড়লে আপনি জানতে পারবেন কীভাবে 'ই-বই ডট কম' নামক একটি উদীয়মান স্টার্টআপকে কেন্দ্র করে সাত বন্ধুর আড্ডা, তর্ক-বিতর্ক আর প্রাতিষ্ঠানিক লড়াইয়ের মাধ্যমে পুরো কর্পোরেট গভর্ন্যান্স কোড-২০১৮ পানির মতো সহজ হয়ে গেছে।

আপনি কোম্পানি সেক্রেটারিয়েট, বোর্ড ও শেয়ার, ফাইন্যান্স টিম, লিগ্যাল কিংবা এইচআর — যে বিভাগেই কর্মরত থাকুন না কেন, বোর্ড গঠন, ডিরেক্টরদের নিয়োগ, বোর্ডের কমিটি গঠন, সভা পরিচালনা, এমডি/সিইও, সিএস, সিএফওদের নিয়োগ ও বেতন নির্ধারণ, অডিটর নিয়োগ থেকে শুরু করে বছর শেষে কমপ্লায়েন্স সার্টিফিকেট অর্জনের এ টু জেড সব তথ্য পেয়ে যাবেন এক মলাটে।

কর্পোরেট সেক্টরে ৩টি ভয় কাটাতে পারলেই জীবনে পরিবর্তন আসে — আইনি জটিলতার ভয়, নিয়মের মারপ্যাঁচে ভুল করার ভয়, আর ক্যারিয়ারে বা ব্যবসায় পিছিয়ে পড়ার ভয়। 'গল্পে গল্পে কর্পোরেট গভর্নেন্স কোড' বইটি এই ৩টি ভয়কে গল্পের মাধ্যমেই দূর করেছে — বাংলাদেশে এই প্রথম কোনো শুষ্ক ও জটিল আইনি বইকে উপন্যাসের মতো জমজমাট করে উপস্থাপনের সম্পূর্ণ নতুন একটি প্রয়াস।

বইটি পড়ে কি আসলেই কোনো লাভ হবে?

এই প্রশ্নটি মনে আসা খুবই স্বাভাবিক। কর্পোরেট গভর্নেন্সের মতো একটি কাঠখোট্টা বিষয় একটি বই পড়ে কতখানি আত্মস্থ করা সম্ভব তা নিয়ে সংশয় থাকতেই পারে। তবে সোজা কথায় উত্তর হলো 'হ্যাঁ', দুর্দান্ত লাভ হবে — আর সেই লাভ শুধু তাত্ত্বিক নয়, আপনার বাস্তব কর্পোরেট ক্যারিয়ার ও ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তের প্রতিটি পদক্ষেপে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।

সাধারণত আইনের ধারা পড়তে গেলে কয়েক পাতা পরেই খেই হারিয়ে যায়। এই বইয়ে 'ই-বই ডট কম' নামক একটি উদীয়মান স্টার্টআপের বাস্তব কর্পোরেট লড়াই তুলে ধরা হয়েছে — সাত বন্ধুর আড্ডা, বিতর্ক আর প্রাতিষ্ঠানিক সংকটের গল্প পড়তে পড়তে আপনি অবচেতনভাবেই শিখে যাবেন BSEC-র কর্পোরেট গভর্ন্যান্স কোডের ১ থেকে ৯ নম্বর কন্ডিশনের প্রতিটি মারপ্যাঁচ।

ঢাকা বা চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে বা যেকোনো বড় লিমিটেড কোম্পানির সচিবালয়, ফাইন্যান্স, লিগ্যাল বা HR বিভাগে কাজ করলে প্রতিদিনের কমপ্লায়েন্স প্রশ্নের উত্তর কোনো ল ফার্মের কাছে না দৌড়ে নিজেই আত্মবিশ্বাসের সাথে দেওয়ার সক্ষমতা দেবে এই বই।

CA, CMA, CS বা বাণিজ্য অনুষদের শিক্ষার্থীদের মুখস্থ বিদ্যার দেয়াল ভেঙে দেবে এই বই — পরীক্ষার হলে বা প্রফেশনাল ভাইভায় কোনো নির্দিষ্ট ধারা না দেখেও পুরো সুশাসনের চেইনটি নিজের ভাষায় নির্ভুলভাবে উপস্থাপন করতে পারবেন।

নতুন উদ্যোক্তাদের শেখাবে কীভাবে প্রথম দিন থেকেই নিজের গড়ে তোলা ব্যবসাকে আন্তর্জাতিক মানের সুশাসিত ও সুরক্ষিত ফ্রেমওয়ার্কে দাঁড় করানো যায় — যাতে ভুল নিয়মের কারণে সম্ভাবনাময় স্টার্টআপ শুরুতেই জরিমানা বা আইনি জটিলতায় বন্ধ না হয়ে যায়।

একই বই তিনটি বড় চাহিদা পূরণ করে — BSEC-র মূল ইংরেজি গেজেট টেক্সট, তার সাথে সহজ-সরল বাংলা অনুবাদ, আর প্রতিটি অধ্যায় শেষে QUIZ ও MCQ সেকশন — যা দিয়ে নিজের বোঝাটা কতখানি পোক্ত হলো তা যাচাই করা যায়।

বইটি পড়ার পর যদি মনে হয় এটি আপনার কর্পোরেট চিন্তাভাবনা বা ক্যারিয়ারে বিন্দুমাত্র কোনো ভ্যালু অ্যাড করেনি, তবে লেখককে মেইল করুন — রিফান্ড পলিসি অনুযায়ী কোনো প্রশ্ন ছাড়াই পুরো টাকা ফেরত দেওয়া হবে।

ভূমিকা

কল্পনা করুন একটি বিশাল সমুদ্রের বুক চিরে এগিয়ে চলছে একটি জাহাজ। জাহাজের মালিক হাজার হাজার সাধারণ মানুষ (শেয়ারহোল্ডার), যারা তাদের কষ্টের জমানো টাকা এই জাহাজের ওপর ভরসা করে বিনিয়োগ করেছেন। জাহাজটি পরিচালনা করছেন একজন ক্যাপ্টেন (CEO) এবং তার নাবিক দল (কর্মীগণ)। রাডারের মতো গাইডলাইন দিচ্ছে বোর্ড অব ডিরেক্টরস।

সমুদ্রের আবহাওয়া সবসময় শান্ত থাকে না; কখনো লোভের ঝড় ওঠে, কখনো দুর্নীতির পাহাড় সামনে আসে। এই জাহাজটি যেন দিক হারিয়ে কোনো বিপদে না পড়ে এবং প্রতিটি বিনিয়োগকারীর টাকা যেন সুরক্ষিত থাকে, তার জন্যই প্রয়োজন একটি নিখুঁত দিকনির্দেশনা বা 'কম্পাস'। বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য এই কম্পাসটির নামই হলো 'কর্পোরেট গভর্নেন্স কোড'।

সহজ কথায়, কর্পোরেট গভর্নেন্স হলো একগুচ্ছ নিয়মকানুন ও চর্চা, যার মাধ্যমে একটি কোম্পানি পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। এটি নিশ্চিত করে যে:

কোম্পানির সকল কর্মকাণ্ড হবে স্বচ্ছ।

জবাবদিহিতা থাকবে প্রতিটি পদক্ষেপে।

ম্যানেজমেন্ট বা পরিচালকরা নিজেদের পকেট না ভরে কোম্পানির এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে কাজ করবে।

এখন একটু ইতিহাসের পাতায় নজর বুলায়। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (BSEC) সর্বপ্রথম ২০১২ সালে একটি কর্পোরেট গভর্নেন্স গাইডলাইন দিয়েছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে ব্যবসার ধরন পাল্টেছে, বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি বেড়েছে। তাই ৩ জুন ২০১৮ তারিখে কমিশন একটি নতুন ও আধুনিক 'কর্পোরেট গভর্নেন্স কোড' জারি করে। এটি কোনো সাধারণ অনুরোধ নয়, বরং বাংলাদেশের সকল তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য এটি পালন করা বাধ্যতামূলক। এরপর ২০২৩ সালে স্বতন্ত্র পরিচালক ও কর্মকর্তাদের দায়িত্ব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন আনা হয়। তারপর সর্বশেষ ২০২৪ সালে কোম্পানির বোর্ডে নারী নেতৃত্ব নিশ্চিত করার নিমিত্ত ন্যূনতম ০১ জন নারী সদস্যের অন্তর্ভুক্তি বাধ্যতামূলক করা হয়।

একটি কোম্পানি কেবল লাভ করার মেশিন নয়, এটি সমাজের একটি অংশ। কর্পোরেট গভর্নেন্স কোড-২০১৮ হলো সেই নৈতিক কাঠামো যা কোম্পানিকে কেবল 'বড়' হতে শেখায় না, বরং 'ভালো' কোম্পানি হতে সাহায্য করে। বইটিতে আমরা দেখব, কর্পোরেট গভর্নেন্স নামক কম্পাসটি কীভাবে ধাপে ধাপে কাজ করে।

একজন বিনিয়োগকারী বা একজন কর্মী বা একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আপনার প্রথম দায়িত্ব হলো জানা যে আপনার কাঙ্ক্ষিত কোম্পানিটি এই 'কম্পাস' বা 'কোড' মেনে চলছে কি না। প্রতি বছর বার্ষিক প্রতিবেদনে একটি 'কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট' থাকে, যা দেখে আপনি কোম্পানির সুশাসন সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন।

বইটিতে 'ই-বই ডট কম' নামক একটি উদীয়মান স্টার্টআপকে কেন্দ্র করে সাত বন্ধুর আড্ডা, পারস্পরিক প্রশ্নোত্তরের নিখুঁত রসায়ন আর বাস্তবসম্মত উদাহরণের মাধ্যমে পুরো কর্পোরেট গভর্ন্যান্স কোডকে অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল ভাষায় উপন্যাসের মতো জমজমাট করে তুলে ধরা হয়েছে। পুরো বইটাতে আমরা এই আইনি দুর্গের দেওয়াল কীভাবে একটা একটা করে গেঁথেছি, তার একটা ট্রেইলার আপনাদের মনের স্ক্রিনে চট করে দেখিয়ে দেওয়া যাক।

গল্পের শুরুতেই আমরা আড্ডায় বসে ভেঙেছি একটা মস্ত বড় ধাঁধা: কোম্পানির মেইন বোর্ডটা আসলে দেখতে কেমন হবে, সেখানে নির্বাহী আর অ-নির্বাহী ডিরেক্টরদের কাটাকাটি সমীকরণটাই বা কী, আর সবচাইতে বড় আকর্ষণ হিসেবে কোম্পানির নিরপেক্ষ পাহারাদার 'স্বতন্ত্র পরিচালক' বা ইনডিপেনডেন্ট ডিরেক্টরের রাজকীয় ভূমিকা ও যোগ্যতার ফিল্টারগুলো আমরা একদম নিখুঁতভাবে চিনেছি। এরপর একটা গাড়ি চালাতে যেমন চারটে চাকা লাগে, কোম্পানির দৈনিক রাজত্ব চালাতেও তেমনি চারজন প্রধান সেনাপতি দরকার; তাই আমাদের গল্পে এমডি বা সিইও সাহেব, চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার (CFO), কোম্পানি সেক্রেটারি (CS) আর হেড অব ইন্টারনাল অডিট (HIAC) এই চার জনের কার কতখানি ক্ষমতা আর কীভাবে তাঁদের লাগাম ও ক্ষমতার ভারসাম্য রাখা হয়েছে, তা খুব স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আর কোম্পানির হিসাবের খাতা যেন আয়নার মতো পরিষ্কার বা True and Fair View দেখায়, তার জন্য তৈরি বিশেষ সাব-কমিটি অর্থাৎ অডিট কমিটির গঠন, বছরে অন্তত চারবার কড়া কোরাম মেনে মিটিংয়ে বসা এবং ভেতরে কোনো জালিয়াতি বা আইন ভাঙার গন্ধ পেলেই মেইন বোর্ডকে ডিঙিয়ে সরাসরি বিএসইসি-র দপ্তরে লাল বাতি বা 'সাইরেন' বাজানোর যে অবিশ্বাস্য ক্ষমতা তাঁদের দেওয়া হয়েছে, সেটি পড়তে গিয়ে তো রীতিমতো থ্রিলারের রোমাঞ্চ পাবেন!

সুশাসনের এই দুর্গটিকে আরও মজবুত করতে বোর্ডে যেন কেউ নিজের ভাই-ভাতিজা বা অযোগ্য বন্ধুকে বসাতে না পারেন, আর ডিরেক্টররা যেন নিজেদের ইচ্ছামতো লোভনীয় বেতন হাঁকাতে না পারেন — তার পাহারাদার হিসেবে আমরা পেয়েছি 'নমিনেশন অ্যান্ড রেমুনারেশন কমিটি' বা এনআরসি-কে, যাদের আমরা ভালোবেসে ডেকেছি কোম্পানির 'এইচআর গডফাদার'। এই এনআরসি কীভাবে ডিরেক্টর আর টপ বসদের বেতনের কড়া থ্রি-কন্ডিশন ফিল্টার করে এবং বোর্ডে বয়স, জেন্ডার বা লিঙ্গের বৈচিত্র্য রাখার চমৎকার গাইডলাইন দেয়, তা আমরা গল্পের ছলে বুঝতে পারব। পাশাপাশি, বাইরে থেকে যে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্ম আমাদের হিসাব অডিট করতে আসবে, তারা যেন আমাদের সাথে কোনো তলে তলে হাত মেলাতে না পারে, সেজন্য বিএসইসি তাদের ওপর ৯টি কাজের যে মস্ত বড় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এবং অডিট চলাকালীন অডিটর বা তাঁদের সাতকুলের আত্মীয়রা যাতে কোম্পানির একটা শেয়ারও ছুঁতে না পারেন সেই আইনি লক-এর রসায়ন আমরা এখানে ব্যবচ্ছেদ করেছি। একেবারে শেষভাগে এসে আমরা দেখেছি, লিস্টিংয়ের প্রথম দিন থেকেই স্টক এক্সচেঞ্জের সাথে যুক্ত কোম্পানির অফিশিয়াল ওয়েবসাইটটি কীভাবে সচল রাখতে হয় যাতে আমজনতা এক ক্লিকেই সব তথ্য পেয়ে যায়, এবং আমরা যে আসলেই পুরো কোড মেনে চলেছি — তার প্রমাণ হিসেবে রেগুলার অডিটর বাদে সম্পূর্ণ অন্য একজন পেশাদার প্র্যাকটিসিং প্রফেশনাল (CA/CMA/CS)-এর কাছ থেকে 'কর্পোরেট গভর্ন্যান্স কমপ্লায়েন্স সার্টিফিকেট' নেওয়ার যে চূড়ান্ত বাধ্যবাধকতা, তা দিয়ে পুরো সুশাসনের বৃত্তটি আমরা সম্পূর্ণ করেছি।

এই বইয়ের বিশেষত্ব হলো — প্রতিটি কন্ডিশন বাস্তবধর্মী গল্পের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেন পাঠক বুঝতে পারেন:

কন্ডিশন বা শর্তগুলি কীভাবে বাস্তবে প্রযোজ্য হয়।

কোন পরিস্থিতিতে কোন নিয়ম প্রযোজ্য এবং সেই নিয়ম কীভাবে ব্যাখ্যা করতে হয়।

এই বইটি শুধু নিছকই কিছু আইনের ধারা বা উপধারার সমষ্টি নয়, এর মাঝে লুকিয়ে আছে এক গভীর উদ্দেশ্য। এটি কেবল একটি চাকরিবিধির ব্যাখ্যামূলক সংকলন নয়, বরং এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক সচেতনতা তৈরির হাতিয়ার। ভাবছেন, চাকরিবিধি আবার সচেতনতা কীভাবে তৈরি করে? করে। ঠিক যেমন চাঁদনী রাতে গাছের ছায়া দেখে ভূত ভেবে ভয় পাওয়ার চেয়ে, ছায়াটা যে গাছেরই, এই সহজ সত্যটা জানা থাকলে মনটা ফুরফুরে থাকে। নিয়ম না জানাটাও অনেকটা সে রকমই; অন্ধকারে পথ হাতড়ানো।

আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, যারা এই বইটি মনোযোগ দিয়ে পড়বেন, তাদের মনের ভেতরের অনেক সংশয় দূর হবে। তারা নিজেদের অধিকার, কর্তব্য ও প্রতিষ্ঠানের নিয়মনীতি সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবেন। এই আত্মবিশ্বাস খুব জরুরি। জানেন তো? আত্মবিশ্বাসী মানুষরা পথ হারায় না, তারা জানে কোন পথে হাঁটলে গন্তব্যে পৌঁছানো যায়। আর সেই পথ যদি নিয়ম মেনে হয়, তবে যাত্রাপথ আরও মসৃণ হয়।

তাহলে আর দেরি কেন? চলুন নিয়মকে গল্পে গল্পে বুঝি। কারণ নিয়ম শুধু বইয়ের পাতায় শুকিয়ে মরা শুকনো তথ্য নয়, নিয়ম জীবনের বাস্তবতাতেও জাগ্রত হোক। প্রতিটি পদক্ষেপে, প্রতিটি সিদ্ধান্তে নিয়ম আমাদের পথ দেখাক। এ যেন এক পথপ্রদর্শক, যে চুপিসারে আমাদের সঠিক গন্তব্যের দিকে ঠেলে দেয়।

More by this author