মূল অংশে যান
Tame Academy

কোভিড-১৯ পরবর্তী কর্পোরেট গভর্নেন্স: নতুন বাস্তবতা

03 অক্টো 2026 তারিখে প্রকাশিত

কোভিড-১৯ পরবর্তী কর্পোরেট গভর্নেন্স: নতুন বাস্তবতা

২০২০ সালের শুরুতে বৈশ্বিক মহামারি যেভাবে পুরো বিশ্বের ব্যবসায়িক কার্যক্রম থামিয়ে দিয়েছিল, তার প্রভাব কর্পোরেট গভর্নেন্সের চর্চাতেও স্থায়ী ছাপ রেখে গেছে। বোর্ড মিটিং, শেয়ারহোল্ডার সভা থেকে শুরু করে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই নতুন অভ্যাস তৈরি হয়েছে, যার কিছু অংশ মহামারি শেষ হওয়ার পরও টিকে গেছে। বড় প্রেক্ষাপটের জন্য পড়তে পারেন বিশ্বে কর্পোরেট গভর্নেন্সের ইতিহাস শীর্ষক লেখাটি।

মহামারি কীভাবে বোর্ডরুমকে বদলে দিল

লকডাউনের কারণে শারীরিক উপস্থিতিতে বোর্ড মিটিং করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে, আর রাতারাতি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভিডিও কনফারেন্সিং নির্ভর বোর্ড মিটিংয়ে অভ্যস্ত হতে হয়। এই পরিবর্তন শুরুতে অনেকের কাছে অস্থায়ী সমাধান মনে হলেও, সময়ের সাথে সাথে এটি অনেক প্রতিষ্ঠানেরই নিয়মিত কার্যপ্রণালীর অংশ হয়ে যায়, কারণ এতে সময় ও খরচ দুটোই সাশ্রয় হয়।

গল্পে বলি

একটি মাঝারি আকারের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বোর্ড চেয়ারম্যানের কথা ভাবুন, যিনি ২০২০ সালের মার্চ মাসে প্রথমবারের মতো ভিডিও কলে পুরো বোর্ড মিটিং পরিচালনা করেন, প্রযুক্তিগত অস্বস্তি নিয়ে। দুই বছর পর তিনি লক্ষ্য করেন যে তার বিদেশে বসবাসরত একজন স্বাধীন পরিচালক, যিনি আগে বছরে হয়তো দুইবার সশরীরে মিটিংয়ে যোগ দিতে পারতেন, এখন প্রতিটি মিটিংয়েই নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন। এই অভিজ্ঞতা তাকে বুঝিয়ে দেয় যে ভার্চুয়াল মিটিং সংকটকালীন বিকল্প নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদী উন্নতি হতে পারে।

ভার্চুয়াল এজিএম, বাধ্যতা থেকে নতুন স্বাভাবিকতা

মহামারির সময় বিশ্বের অনেক দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থা, বাংলাদেশসহ, সাময়িকভাবে ভার্চুয়াল বার্ষিক সাধারণ সভার অনুমতি দেয়, যা এর আগে অনেক জায়গায় কল্পনাই করা যেত না। এই অভিজ্ঞতা থেকে ডিজিটাল গভর্নেন্স চর্চা নিয়ে আরও বিস্তারিত পাবেন ডিজিটাল যুগে কর্পোরেট গভর্নেন্সের রূপান্তর শীর্ষক লেখায়। মহামারি কেটে যাওয়ার পরও অনেক কোম্পানি হাইব্রিড পদ্ধতিতে সাধারণ সভা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কারণ এতে শেয়ারহোল্ডারদের অংশগ্রহণ বেড়েছে।

আপনি কি কখনো ভেবেছেন, মহামারির আগে কেন ভার্চুয়াল এজিএমের ধারণা এত ব্যাপকভাবে গৃহীত হয়নি?

প্রযুক্তি তখনও উপলব্ধ ছিল, কিন্তু আইনি কাঠামো এবং প্রাতিষ্ঠানিক অভ্যাস পরিবর্তনের জন্য একটি বড় ধাক্কার প্রয়োজন ছিল। মহামারি সেই ধাক্কাটি দিয়েছিল, যখন শারীরিক সভা করার আর কোনো বিকল্প ছিল না, আর তখনই নিয়ন্ত্রকরা দ্রুত অস্থায়ী নিয়ম শিথিল করে ভার্চুয়াল সভার অনুমতি দিতে বাধ্য হন।

বিজ্ঞাপনের জায়গা (সংরক্ষিত)

ব্যবসা ধারাবাহিকতা পরিকল্পনা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা

মহামারি দেখিয়ে দেয় যে অনেক প্রতিষ্ঠানেরই সুনির্দিষ্ট ব্যবসা ধারাবাহিকতা পরিকল্পনা বা বিসিপি ছিল না, যার ফলে সরবরাহ চেইন বিঘ্ন বা হঠাৎ রাজস্ব হ্রাসের মুখে অনেকেই দিশেহারা হয়ে পড়ে। এরপর থেকে বোর্ড পর্যায়ে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটিগুলো আরও সক্রিয়ভাবে তারল্য ঝুঁকি, সরবরাহ চেইন ঝুঁকি এবং কর্মী স্বাস্থ্য সুরক্ষার মতো বিষয়গুলো নিয়মিত পর্যালোচনার অন্তর্ভুক্ত করেছে।

কোভিড পরবর্তী বোর্ডের পাঁচটি অগ্রাধিকার ক্ষেত্র
ভার্চুয়াল এজিএম ও বোর্ড সভা: 1 ব্যবসা ধারাবাহিকতা পরিকল্পনা: 1 তারল্য ও সচল-উদ্বেগ ঝুঁকি তদারকি: 1 দূরবর্তী অডিট ও তদারকি: 1 কর্মী স্বাস্থ্য-নিরাপত্তা গভর্নেন্স: 1
বিষয় মান
ভার্চুয়াল এজিএম ও বোর্ড সভা ১
ব্যবসা ধারাবাহিকতা পরিকল্পনা ১
তারল্য ও সচল-উদ্বেগ ঝুঁকি তদারকি ১
দূরবর্তী অডিট ও তদারকি ১
কর্মী স্বাস্থ্য-নিরাপত্তা গভর্নেন্স ১

দূরবর্তী অডিট ও তদারকির চ্যালেঞ্জ

লকডাউনের সময় নিরীক্ষকদের জন্য সরাসরি প্রতিষ্ঠানের গুদাম পরিদর্শন করা বা কাগুজে নথি সরাসরি যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই বাস্তবতা থেকে দূরবর্তী অডিট পদ্ধতি, ভিডিও কলের মাধ্যমে ইনভেন্টরি গণনা পর্যবেক্ষণ এবং ডিজিটাল নথি যাচাইয়ের মতো নতুন কৌশল দ্রুত বিকশিত হয়, যা এখনো অনেক নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যপ্রণালীর অংশ হয়ে আছে।

গল্পে বলি

একজন নিরীক্ষকের কথা ভাবুন, যিনি ২০২০ সালে একটি গুদামের ইনভেন্টরি গণনা সরাসরি উপস্থিত না থেকে ভিডিও কলের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন, কর্মীকে ক্যামেরা নিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখাতে বলে। শুরুতে পদ্ধতিটি অস্বাভাবিক মনে হলেও, পরবর্তীতে তিনি বুঝতে পারেন যে উপযুক্ত সতর্কতা নিলে এই পদ্ধতিও যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য প্রমাণ দিতে পারে, বিশেষ করে দূরবর্তী এলাকার শাখা পরিদর্শনের ক্ষেত্রে এটি এখন সময় ও খরচ দুটোই সাশ্রয় করে।

কোভিড পরবর্তী স্থায়ী পরিবর্তনসমূহ

মহামারি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পরও হাইব্রিড বোর্ড মিটিং, ডিজিটাল শেয়ারহোল্ডার যোগাযোগ এবং আরও সক্রিয় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির মতো চর্চাগুলো অনেক প্রতিষ্ঠানেই স্থায়ীভাবে থেকে গেছে। এটি প্রমাণ করে যে সংকট কখনো কখনো এমন ইতিবাচক পরিবর্তনও নিয়ে আসতে পারে, যা স্বাভাবিক সময়ে গ্রহণ করতে প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেক বেশি সময় লাগত।

আপনি কি মনে করেন মহামারি শেষ হয়ে যাওয়ার পর ভার্চুয়াল গভর্নেন্স চর্চা আবার আগের মতো ফিরে যাবে?

সম্পূর্ণভাবে নয়। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই এখন একটি হাইব্রিড মডেলে স্থির হয়েছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের জন্য সশরীরে মিটিং হয়, কিন্তু নিয়মিত আপডেট বা দূরবর্তী পরিচালকদের অংশগ্রহণের জন্য ভার্চুয়াল মাধ্যম ব্যবহার অব্যাহত থাকে। এই ভারসাম্যই সম্ভবত ভবিষ্যতের স্থায়ী চর্চা হয়ে উঠবে।

উপসংহার

কোভিড-১৯ মহামারি কর্পোরেট গভর্নেন্সের মৌলিক নীতিকে বদলায়নি, কিন্তু এর বাস্তবায়নের পদ্ধতিকে চিরতরে বদলে দিয়েছে। ভার্চুয়াল সভা থেকে দূরবর্তী অডিট পর্যন্ত, এই নতুন বাস্তবতা আধুনিক গভর্নেন্স চর্চার একটি স্থায়ী অংশ হয়ে গেছে। ডিজিটাল রূপান্তরের বৃহত্তর প্রেক্ষাপট জানতে পড়ুন ডিজিটাল যুগে কর্পোরেট গভর্নেন্সের রূপান্তর শীর্ষক লেখাটি।

প্রশ্নোত্তর

মহামারির সময় কি বাংলাদেশে ভার্চুয়াল এজিএম অনুমোদিত হয়েছিল?

হ্যাঁ, মহামারির সময় নিয়ন্ত্রক সংস্থা সাময়িকভাবে ভার্চুয়াল বা ডিজিটাল মাধ্যমে বার্ষিক সাধারণ সভা আয়োজনের অনুমতি দেয়।

কোভিড পরবর্তী সময়ে কোন চর্চাগুলো স্থায়ী হয়েছে?

হাইব্রিড বোর্ড মিটিং, ডিজিটাল শেয়ারহোল্ডার যোগাযোগ এবং আরও সক্রিয় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটি, এই চর্চাগুলো অনেক প্রতিষ্ঠানেই স্থায়ীভাবে থেকে গেছে।

দূরবর্তী অডিট কি নির্ভরযোগ্য?

উপযুক্ত সতর্কতা এবং প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি থাকলে দূরবর্তী অডিট পদ্ধতি যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য প্রমাণ দিতে পারে, যদিও কিছু ক্ষেত্রে এখনো সরাসরি পরিদর্শনের প্রয়োজন হয়।

ব্যবসা ধারাবাহিকতা পরিকল্পনা কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে?

মহামারি দেখিয়ে দিয়েছে যে আকস্মিক সংকটে প্রস্তুত না থাকলে একটি প্রতিষ্ঠান দ্রুত বিপর্যস্ত হতে পারে, তাই বোর্ড পর্যায়ে এখন এই পরিকল্পনা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়।

শেয়ার করুন: